বিশ্বের প্রথম দুর্গাপূজোর ধ্বংসাবশেষ এখনও কাঁকসার গড় জঙ্গলে - The News Lion

বিশ্বের প্রথম দুর্গাপূজোর ধ্বংসাবশেষ এখনও কাঁকসার গড় জঙ্গলে



দি নিউজ লায়ন ;   কথিত  আছে মেধামুনির নির্দেশে  কাঁকসার গড় জঙ্গলের গভীর অরণ্যের মাঝে মেধাশ্রম বা গড় চন্ডীধামে পূর্ব কালে(৭০০-৮০০খ্রিস্টাব্দ) রাজা সুরথ ও সমাধি বৈশ‍্য বসন্তকালে প্রথম দুর্গাপূজার  সূচনা করেছিলেন।তারপর থেকেই হয়ে আসছে দুর্গাপূজা।


পূর্বকালে সুরথ রাজার রাজধানী ছিল বীরভূম জেলার বোলপুরের সুপুর।রাজা সুরথ রাজ্য হারিয়ে এবং সমাধি বৈশ‍্য সংসার ত্যাগ করে একসময়  নিরাপদে বসবাস করার জন্য ৪৫কিলোমিটার পশ্চিমে অজয় নদীর দক্ষিণ প্রান্তে শাল, সেগুন মহুয়ার গভীর জঙ্গলের মাঝে মহর্ষি মেধামুনির আশ্রমে আশ্রয় নিয়েছিলেন।মেধামুনী আদেশ করেন রাজা সুরথ এবং সমাধি বৈশ‍্যকে মৃন্ময়ী দুর্গামুর্তি নির্মাণ করার। 


আর তারপর শুরু করেন দুর্গাপূজা।তারপরেই রাজা সুরথ রাজ্য লাভ করেন এবং সমাধি বৈশ‍্য আত্মজ্ঞান লাভ করেন।মেধাশ্রম চত্বরে রয়েছে বিভিন্ন ইতিহাসের বিবরণ।মন্দির ভেদ করে ওঠা বহু পুরাতন বটবৃক্ষ রয়েছে।রাঢ় বাংলার মহাতীর্থ ভূমি নামে পরিচিত এই গড়চন্ডী ধাম।ওই মেধাশ্রমে বসবাসকারী যোগীরাজ ব্রম্ভানন্দগিরি জানান মেধা ঋষি প্রাচীন শাল গাছের তলায় বসে মহাকালী,মহালক্ষী, মহা সরস্বতী তিনটি রূপে চন্ডীমন্ত্র রচনা করেছিলেন।


সেই চন্ডীমন্ত্র শ্রবণ এবং দীর্ঘ তপস্যা করেন রাজা সুরথ এবং সমাধি বৈশ‍্য।রাজা সুরথ রাজ্য ফিরে পাওয়ার পর তিনটি মন্দির নির্মান করেন এবং চারিদিক পাঁচিল দিয়ে ঘিরে দেন।এখনো রীতি মেনে পাঁচিলের চারিপাশ পরিক্রমা হয় দুর্গাপূজার সময়। প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া নিপাশা ঘোষ জানালো বিভিন্ন ইতিহাস খুঁজে পেলাম এখানে। সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রতিদিন ধ্বংস হচ্ছে গড় জঙ্গলের এই ইতিহাস।


গড়জঙ্গলেই রয়েছে আরও একটি  মন্দির শ্যামরুপার মন্দির।এই দুই মন্দিরের সাথেই মিশে রয়েছে ইছাই ঘোষ ও লাউসেনের কাহিনি। বৈষ্ণব কবি জয়দেব এই গড় জঙ্গলে এসে দেবীপুজা করেন এমন ইতিহাসও কথিত। 


দুর্গাপূজার সময় দুর্ভেদ্য এই সবুজ বনানীর বুক চিরে লালমাটির রাস্তা ধরে বহু মানুষ আসেন।২ নম্বর জাতীয় সড়কের দুর্গাপুরের মুচিপাড়া থেকে মাত্র ১১ কিমি দূরে ঘন জঙ্গলে এই দুই মন্দিরে দুর্গাপূজার সময় হাজার হাজার পুন্যার্থীর ঢল নামে।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.