পারিবারিক অশান্তির জের, স্ত্রীকে ধারাল অস্ত্রের কোপ স্বামীর। পাল্টা স্বামীকে ধরে গণধোলাই
দি নিউজ লায়ন ; পারিবারিক অশান্তির জেরে স্ত্রীকে ধারাল অস্ত্রের কোপ স্বামীর। পাল্টা স্বামীকে ধরেও গণধোলাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় হাওড়ার গোলাবাড়িতে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। জানা গেছে, বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা তুলে না নেওয়ায় মাসশাশুড়ির বাড়িতে গিয়ে স্ত্রীর উপর ধারাল অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় স্বামী। বুধবার রাতে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার গোলাবাড়ি থানা এলাকায়।
স্ত্রীর ঘাড়ে ধারাল অস্ত্রের কোপ মারা হয় বলে অভিযোগ। পাল্টা আক্রমণকারী স্বামীকেও সেখানে হাতেনাতে ধরে গণধোলাই দেওয়ার ঘটনা ঘটে। গোলাবাড়ি থানা এলাকার ত্রিপুরা রায় লেনের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। জখম শ্রীলেখা পাল ও তাঁর স্বামী তাপস পালকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাওড়া জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে গোলাবাড়ি থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রের খবর, শ্রীলেখা পালের বিয়ে হয়েছিল মালিপাঁচঘড়া থানা এলাকার ভৈরব দত্ত লেনে। স্বামীর সঙ্গে শ্রীলেখার গন্ডগোল চলছিল গত ৭ - ৮ মাস ধরে। এরপর থেকেই শ্রীলেখা ত্রিপুরা রায় লেনে মাসির বাড়িতে ছিলেন। সেখানে বুধবার রাতে স্বামী তাপস মদ্যপ অবস্থায় এসেছিলেন বলে অভিযোগ। কলিং বেল টিপে দরজা খুলতেই শ্রীলেখার ঘাড়ে ধারাল অস্ত্রের কোপ মারে তাপস।
সেইসময় লোকজন তাপসকে ধরেও মারধর করেন। দুজনকেই জখম অবস্থায় উদ্ধার করে হাওড়া জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা তোলার জন্য অনেকদিন ধরেই স্ত্রী শ্রীলেখাকে চাপ দিচ্ছিলেন স্বামী তাপস। কিন্তু তাঁর এই দাবি মানতে নারাজ ছিলেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। সেই দাবি না মানার পরিণতিতেই স্ত্রীর ঘাড়ে ছুরি চালান তাঁর স্বামী।
বছর দুয়েক আগেই হাওড়ার ভৈরব দত্ত লেনের বাসিন্দা তাপসের সঙ্গে বিয়ে হয় মেদিনীপুরের বাসিন্দা শ্রীলেখার। বিয়ের পর থেকেই নানা বিষয় নিয়ে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। বর্তমানে এদের বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছে। বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলাকালীন লকডাউনের সময়ই শ্বশুরবাড়ি থেকে চলে আসেন শ্রীলেখা। গোলাবাড়ির ত্রিপুরা রায় লেনে মাসির কাছে ছিলেন তিনি।
বুধবার রাতে হঠাৎই ওই ফ্ল্যাটে যান শ্রীলেখার স্বামী তাপস। বৃহস্পতিবার শ্রীলেখা অভিযোগ করেন, কলিং বেলের শব্দ শুনে ফ্ল্যাটের দরজা খুলতেই তাপস তাঁর মুখ টিপে ধরে। তারপর ছুরি চালিয়ে দেয়। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। চিৎকার শুনে ছুটে আসেন শ্রীলেখাদের প্রতিবেশীরাও। শ্রীলেখা আরও জানান, তাপস দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর উপর অত্যাচার করতো। সে কারণে কয়েক মাস আগেই বধূ নির্যাতনের মামলা করেছিলেন তিনি।
এদিকে শ্রীলেখার এক মাসি টুম্পা মিত্র এদিন বলেন, "বুধবার সন্ধ্যায় তাপস তাঁর বাড়িতে যায়। তিনি তখন ঘরে ছিলেন না। ফোন করে তাঁকে ডাকা হলে তিনি বাড়ি এসে দেখেন এই ঘটনা।
পুলিশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত দু'জনেই অসুস্থ। তাঁরা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এরা সুস্থ হলে কারণ জানা যাবে। তদন্ত এগোচ্ছে। এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শ্রীলেখা পালের পরিবারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতেই নির্দিষ্ট ধারায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হবে।

Post a Comment