মূর্তি নয়, জন্মদাত্রী মাকে দেবীরুপে পুজো করা হয়
দি নিউজ লায়ন ; মূর্তি নয়, জন্মদাত্রী মাকে দেবীরুপে পুজো করা হয়। পুজো করা হয় গৃহকর্মী এবং মহিলাদের। আর নবমীতে হয় কুমারী পুজো। বর্ধমান শহরের মিরছোবায় প্রজ্ঞানন্দ ব্রহ্মচারীর বাড়িতে এই পুজো হয়। বাড়ির নামকরণ করা হয়েছে পিতৃ-মাতৃ মন্দির। মহালয়ার দিন এলাকার ৩০ জন মহিলাকে দেবীরূপে পুজো করা হয়। জাতি, ধর্ম নিির্বশেষে মহিলাদের পুজো করা হয় এখানে।
নতুন বস্ত্রে সজ্জিত মহিলাদের পুজো করা হয়। ফল, মিষ্টান্ন, নতুন বস্ত্র দিয়ে বরণ করা হয় তাঁদের। অন্নভোগেরও আয়োজন করা হয়। পঞ্চমীর দিন এলাকার গৃহকর্মীদের দেবীরূপে পুজো করা হয়। দেবীর ঘটপুজোর আগে যেমন দ্বারঘট পুজো করা হয়, তেমনই গৃহকর্মীদের পুজো করা হয়। নবমীর দিন কুমারী পুজো হয়। পুজো দেখতে বহু মানুষ ভিড় জমান। দীর্ঘদিন ধরে কুমারী পুজো চলে আসছে।
আর দশমীর দিন জন্মদাত্রী মাকে দেবীরূপে পুজো করেন প্রজ্ঞানন্দ ব্রহ্মচারী। পুজো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পিতৃপক্ষের অবসান হয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হয় মহালয়ার দিন। তাই সেদিন মহিলাদের দেবীরূপে পুজো করা হয়।
গৃহকর্মীরা ঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখেন। গৃহও মন্দির। তাই পঞ্চমীর দিন দেবীর ঘটপুজোর আগে যেমন দ্বারঘট পুজো করা হয়, তেমনই দেবীর বোধনের আগে গৃহকর্মীদের পুজো করা হয়।
আর দশমীর দিন মাকে দেবীরূপে পুজো করা হয়। প্রতিমা বিসর্জন হয়, কিন্তু মায়ের বিসর্জন হয়না। মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা, ভক্তি জ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে তাঁকে দেবীরূপে পুজো করা হয়। এ এক ভিন্ন ধরণের পুজো। এখানে দেবী মূর্তি থাকে না। এলাকার মানুষ পুজোয় অংশ নেন। অনুষ্ঠানের আড়ম্বরতা এখানে থাকে না। ভক্তি এবং শ্রদ্ধাই এখানে গুরুত্ব পায়।

Post a Comment