মা পুজোয় পাবেন হালুয়া, পুরি আর ছোলা
দি নিউজ লায়ন ; মা পুজো পাবেন হালুয়া, পুরি আর ছোলায়। ভক্তরা প্রসাদ পাবেন অষ্টমী নবমী। প্রতিপদ থেকে পুজো শুরু। নবমীতে নবরাত্রি। প্রথা মেনে হবে গুজরাটি সম্প্রদায়ের ডান্ডিয়া নাচ। সবই হবে কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মেনে। বর্ধমান রাজবাড়ির পটেশ্বরী সাড়ম্বরে নয়, এবারে আচারনিষ্ঠা মেনে দেবীর আরাধনা হবে প্রাচীন রীতি মেনে। পাটেশ্বরী পটেই পুজিতা।
দুর্গাপুজোয় রাজ আমলে বাহান্ন রকমের ভোগ দেওয়া হতো। এখন আর সেই ভোগ হয় না। কিন্তু এবার করোনা আবহে রাজা-রানী না আসায় ভোগ দেওয়া হবে মাত্র তিন রকম পদের। আগে ভোগ দেওয়া হতো বড় বড় রুপো ও পিতলের থালায়, এখন ভোগ সাজানো হয় এ্যালুমিনিয়ামের থালায়। বংশপরম্পরায় রাজ পুরোহিতই মায়ের ভোগ রান্নায় পৌরোহিত্য করে আসছেন।
এখন প্রধান পুরোহিত রয়েছেন রাজ পুরোহিতের বংশধর উত্তম মিশ্র। বছর তিরিশেক আগে বেনারস থেকে একজন পুরোহিত সুমন কিশোর মিশ্রকে এখানে নিত্যপুজোর জন্য নিয়ে আসা হয়েছে। বর্ধমান রাজাদের ঠাকুরবাড়ি লক্ষীনারায়ণ জিউ মন্দিরে রাজপরিবারের পটেশ্বরী দুর্গাপুজো প্রায় ৩০০ বছর ধরে হয়ে আসছে।
প্রধান পুরোহিত উত্তম মিশ্র রাজ আমলে এই শরৎকালে নবরাত্রীর দুর্গাপুজোয় সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে দেবীকে বাহান্ন রকমের ভোগ দেওয়া হতো বলে তার ব্যাখ্যা করেন। তাঁর কথায়, এখন সেই ভোগ আর হয় না। এবার করোনা আবহে রাজকুমার প্রণয়চন্দ মহতাব ও তাঁর স্ত্রী নন্দিনী মহতাব আসতে পারবেন না। তাই এবারের পুজোয় মাত্র তিন রকমের ভোগ দেওয়া হবে।
মূলত: যে তিনটি ভোগ রাজ আমল থেকেই দিয়ে আসা হচ্ছে, সেগুলিই দেওয়া হবে। সেগুলি হল- হালুয়া, পুরি ও ছোলার ডাল। এই তিনটি প্রধান ভোগ প্রথম থেকেই দেওয়া হচ্ছে। রাজা মহতাবচাঁদের আমল থেকে এই পুজোর সূচনা। তিনশো বছর আগে জেনানা মহলের গায়ে ছিল দুর্গাদালান। কালের গ্রাসে তা বিলীন। এখন পটেশ্বরীর অধিষ্ঠাতা রাজবাড়ির কুলদেবতা লক্ষীনারায়ণজিঊ মন্দিরে।

Post a Comment